Tuesday, 12 January 2016

বিশ্ব কবিতা দিবসে



কবি আমি, কবিতা লিখি,
পুরিল না আশা মোর।
বিশ্ব কবিতা দিবসে এবার,
আসুক নতুন ভোর।

কুয়াশা ঝরা শীতের সকালে,
অঝোরে বৃষ্টি ঝরে,
কবির লেখনী ক্লান্ত আজিকে,
হাত হতে যায় সরে।

কবি আমি, কবিতা লিখি,
পুরিল না আশা মোর।
বিশ্ব কবিতা দিবসে এবার,
আসুক নতুন ভোর।

কাব্যের সুরে লালিত্য ঝংকার,
রচিছে আশার প্রাসাদ।
কাব্যের কড়া হাতুড়ির আঘাতে,
খসে পড়ে বুনিয়াদ।

কবি আমি, কবিতা লিখি,
পুরিল না আশা মোর।
বিশ্ব কবিতা দিবসে এবার,
আসুক নতুন ভোর।

উষর মরূর তরুর শাখায়
শুনি প্রভাত পাখির গান।
কবিতার পাতায় বিদ্রোহ আজ,
লালকালিতে দাও টান।

কবি আমি কবিতা লিখি,
পুরিল না আশা মোর।
বিশ্ব কবিতা দিবসে এবার,
আসুক নতুন ভোর।

ভেঙে গেছে আজ দেশ,
মরে গেছে মানুষের মন।
দিকে দিকে বিদ্রোহ তাই,
জাগো এবার জনগণ।

কবি আমি, কবিতা লিখি,
পুরিল না আশা মোর।
বিশ্ব কবিতা দিবসে এবার,

আসুক নতুন ভোর।








মোদের গাঁয়ে

মোদের গাঁয়ে, তরুর ছায়ে, ছোট ছোট মাটির ঘর,
গাঁয়ের পাশে, ছোট নদী এক, বয়ে চলে নিরন্তর।
পাঠশালে সব, করে কলরব, ছোট ছোট শিশুগণ,
ছুটির পরে, ফিরে আসে ঘরে, পাঠ করি সমাপন।

মোদের গাঁয়ে, রাস্তার বাঁয়ে, তাল পুকুরের ধারে,
ফিঙেরা নাচে, বটের গাছে, বক বসে নদী পারে।
দুপুর বেলায়, মোদের গাঁয়, গাঁয়ের যত ছেলে,
পুকুরঘাটে, সাঁতার কাটে, দিঘির শীতল জলে।

গাঁয়ের ছেলে, ফুটবল খেলে, ফকিরডাঙার মাঠে,
খেলার শেষে, বাড়ি ফিরে আসে, সূর্যি বসে পাটে।
সন্ধে বেলায়, প্রদীপ জ্বালায়, গাঁয়ের নতুন বধূ,
বাসায় ফেরে, ক্লান্ত পাখিরা, করে কলবর শুধু।

মোদের গাঁয়ে, আঁধার নামে, দিন শেষে রাত আসে,

কুয়াশা ঝরা, শীতের রাতে, হিম পড়ে সবুজ ঘাসে।





Sunday, 22 November 2015



সোনা মাটির ধান (লোক কবিতা)

ও মাটির ধান রে সোনা মাটির ধান।
ও সোনার ধান রে মাটির সোনা ধান।

চাষী গেছে মাঠে রে সে গায় মাটির গান।
ও মাটির ধান রে ও সোনার ধান।

অঘ্রানেতে ধানের খেতে
সোনার ধান উঠে মেতে
আনন্দেতে সবাই মাতে, উথাল পাথাল পরান।

ও মাটির ধান রে সোনা মাটির ধান।
ও সোনার ধান রে মাটির সোনা ধান।
চাষী গেছে মাঠে রে ও গায় মাটির গান।

সোনা ধান মাঠে মাঠে
চাষীরা সব ধান কাটে,
বেলা গেলে ঘরে ফেরে, দিন হলে অবসান।

ও মাটির ধান রে সোনা মাটির ধান।
ও সোনার ধান রে মাটির সোনা ধান।
চাষী গেছে মাঠে রে সে গায় মাটির গান।

উঠোন মাঝে ধানের গোলা,
ধান রেখেছে চাষী ভোলা।
ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে, আসে সব কিষান।

ও মাটির ধান রে সোনা মাটির ধান।
ও সোনার ধান রে মাটির সোনা ধান।
চাষী গেছে মাঠে রে সে গায় মাটির গান।



Friday, 13 November 2015

দু’টুকরো কবিতা


খবরের কাগজের
প্রথম পাতায়
লাল কালিতে লেখা
কবিতার মৃত্যু।
দুঃসংবাদ!
দ্রুতগতিতে পৌঁছায়।
এলো ওরা হাতে
রক্তাক্ত শানিত ত
রবারি লয়ে,
বর্বরোচিত ভাবে
হত্যা করলো একটা
নিষ্পাপ মেয়েটাকে।
একটি ফুলের মৃত্যু।
ভালবাসার মৃত্যু।
...
কবিতা আজ আর নেই।
সে মরে গেছে,
সে হারিয়ে গেছে,
সে ফুরিয়ে গেছে।
কিন্তু মরে নি সে,
ভালবাসার মৃত্যু নেই।
সে আজও বেঁচে আছে
আজ কবিতার পাতায়
দু’টুকরো কবিতা হয়ে।


সময় কথা বলে,
কান্না, ঘাম আর
রক্তের ফসলে
জমে ওঠে
মৃত কংকাল।
ওরা অভিশাপ দেয়।
শ্মশানে ফুলের গাছটা
শুকিয়ে গেছে।
তবে কি কবিতা মরে গেছে?

দু’টুকরো কবিতার
শেষ কথা।
ভালবাসার অপমৃত্যু!
কবিতার মৃত্যু।

একটি ফুলের মৃত্যু।

Saturday, 7 November 2015


শক্তির আবাহন ও আরাধনা।

চিন্ময়ী রূপে
এসো মাগো তুমি
জগজ্জননী মা।

শ্যামারূপী কালী
ভীমা ভয়ংকরী
খড়্গধারিণী মা।

নয়নে বহ্নি জ্বলে,
মুণ্ডমালা গলে,
ত্রিশূল ধারিণী মা।

কপালে দিব্য আভা,
গলাতে রক্ত জবা,
নৃমুণ্ডমালিণী মা।

এসো মাগো ভবে,
ডাকি মোরা সবে,
দেহ তব রাঙা চরণ।

শংখ ঘণ্টা বাজে,
এসো এই ধরামাঝে,
তোমারে করি আবাহন।


নমো দেবৈঃ
মহা দেবৈঃ
শিবায়ৈ সততং নমঃ

নমঃ প্রকৃতায়ৈঃ
ভদ্রায়ৈ নিয়তা
প্রণতাস্ম তাম্।

রৌদ্রায়ৈ নমঃ
নিত্যায়ৈ ভদ্রাকাল্যৈঃ
নমো নমঃ

নমঃ জগতপ্রতিষ্ঠায়ৈ
দৈব্যৈঃ কৃতৈ
নমো নমঃ

ঔঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ

যত্র এবাগত
পাপং তত্রৈব
প্রতিগচ্ছতু।


শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ
দেবী বিসর্জন-1

বিসর্জনের বাজনা বাজে,
দুলিয়ে কোমর সবাই নাচে,
বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জন।

মায়ের চোখে জল ঝরে,
সবার হৃদয় দুঃখে ভরে,
দেবীর দোলায় কৈলাসে গমন।


লক্ষ্মীপূজা-2

কোজাগরী পূর্ণিমা তিথিতে,
পূজি লক্ষ্মী দেবী বিধিমতে,
লক্ষ্মী পূজা হয় সমাপন।

দিন যায়, রাত আসে,
দিনের স্মৃতি যায় মুছে,
সবার শেষে দেবীর বিসর্জন।

শ্যামাপূজা-3


দীপাবলী আসে তাই,
চাষীর ঘরে অন্ন নাই,
সোনা ধানে খেত আছে ভরে।

অমানিশার গহন রাতে,
কালীপূজা শ্মশান ঘাটে,

দীপ মালা জ্বলে সবার ঘরে।